ব্যবসা

কম মূলধন দিয়ে নতুন ব্যবসা আইডিয়া

আপনি কি নতুন কোন ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন যেখানে কম মূলধন দিয়ে আপনি ব্যবসাটা শুরু করতে পারেন। তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

আপনাদের জন্য যে  ব্যবসার  আইডিয়ার কথা বলব তাতে  কোন মেশিনের প্রয়োজন পড়বে না,  আপনি বাড়িতে কতগুলি মেটেরিয়াল  কিনে  এই জিনিসটা তৈরি করতে পারবেন এবং এই  ব্যবসা শুরু করতে পারবেন আপনি মাত্র  10000 টাকা ইনভেস্ট করে।আর প্রতিদিন এই ব্যবসাটা থেকে তেরোশো থেকে পনেরশো টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন।  এই ব্যবসাটা এমনই একটা ব্যবসা যেটা  পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই করতে পারবেন। আজকে যে  বিজনেস আইডিয়া টা দেবো সেটা হচ্ছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ডিসওয়াস জেল তৈরির বিজনেস আইডিয়া।

অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ডিসওয়াস জেল এর  ভবিষ্যৎঃ

বাসনপত্র পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সাবানের পরিবর্তে ডিশ ওয়াশ জেল ব্যবহার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই কারণেই বিভিন্ন নামিদামি কম্পানি কম্পিটিশান করে বিভিন্ন প্রকার ডিসওয়াস লঞ্চ করছে।  তাছারা ডিসওয়াস জেল এমন একটি প্রোডাক্ট যা প্রতিদিন প্রতিটা বাড়িতে প্রয়োজন হয়। প্রতিটা বাড়িতেই বাসন মাজতে হয় সেই কারণেই ডিশ ওয়াশ জেল এর  চাহিদা  অনেক বেশি। বর্তমানে মানুষ এখন সাবানের থেকে ডিসওয়াস জেলের দিকে বেশি ঝুঁকছে। সাবান ব্যবহার করার পর বাসন এর মধ্যে অনেক সময় দাগ লেগে থাকে  কিন্তু ডিশ ওয়াশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা হয় না। সাবান ব্যবহারের ফলে সাবানটা অনেকটা খরচা হয়ে যায় কিন্তু যদি ডিসওয়াস ব্যবহার করা হয় সে ক্ষেত্রে অল্প ডিসওয়াস জেল নিলে অনেক বাসন মাজা হয়ে যায়। সাবানের তুলনায় ডিশ ওয়াশ জেল হাতের কোন ক্ষতি করে। সাবান তৈরি করতে গিয়ে যে পরিমাণ ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয় , ডিসওয়াশ জেল তৈরীর ক্ষেত্রে ততটা  পরিমাণ ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয় না সেই কারণেই হাতের উপর কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

এবার জেনে নেব ডিসওয়াশ জেল তৈরী করতে  কি কি  মেটেরিয়াল এর প্রয়োজন  এবং কিভাবে এটি তৈরি করতে হয়, তাছারা এই ব্যবসার জন্য  কি কি লাইসেন্স প্রয়োজন এবং সব শেষে জানব কিভাবে আপনি এটার মার্কেটিং করবেন।

উপকরণঃ

  • জল 400ml
  •  এস এল ই এস  150ml
  •  হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড 100ml
  •  সাইট্রিক এসিড 15গ্রাম
  • বেকিং সোডা 15 গ্রাম
  •  সল্ট 25 গ্রাম
  •  লেমন এসেন্স  5ml
  •  ইয়েলো অথবা গ্রীন কালার 5ml

পদ্ধতি

আপনারা কলকাতার কেমিক্যাল মার্কেট থেকে এই  সব  মেটিরিয়ালস গুলো কালেক্ট করে নিতে পারবেন। এবার চলে আসা যাক কিভাবে আপনারা জিনিসটাকে বানাবেন এই ডিসওয়াস জেলটা প্রথমে 400ml ওয়াটার তারপর সেলস 100ml তারপরে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড 100ml দিতে হবে সাইট্রিক এসিড 15 গ্রাম দিতে হবে বেকিং সোডা 15 গ্রাম দিতে হবে সল্ট 25 গ্রাম দিতে হবে লেমন এসেন্সিয়াল অয়েল 5ml দিতে  সবশেষে  গ্রীন কালার 5ml দিতে হবে  । একটা প্লাস্টিক বালতির মধ্যে সমস্ত উপকরণ গুলি একে একে মেশাতে হবে এবং একটা কাঠের দণ্ড দিয়ে ক্রমশ নাড়তে হবে 5 থেকে ১০ মিনিট । কাঠের দন্ড ব্যবহার করতে বলার কারনে হচ্ছে কারন কাঠ থেকে কোন বিক্রিয়া তৈরি হয় না যদি অন্য কিছু দিয়ে করা হয় তাহলে সেই জিনিসটা থেকে বিক্রিয়া তৈরি হতে পারে ।

কি কি লাইসেন্স প্রয়োজন?

এবার চলে আসা যাক  লিগাল ব্যাপারে, একটা বিজনেস করতে গেলে লাইসেন্স এর প্রয়োজন আছে সে ক্ষেত্রে একটা ট্রেড লাইসেন্স পঞ্চায়েত বা পৌরসভা থেকে বার করে নিতে হবে তারপর যেটা করতে হবে মেনুফেকচারিং লাইসেন্স অথবা বিডিও অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা বলে দেবে কোন অফিসে কিভাবে কি করতে হবে তারাই পুরোটাই আপনাকে গাইড করে দেবে।  এর পর  যেটা করতে হবে জিএসটি নম্বর টা বার করে রাখতে হবে কারণ কি কখনোই যাতে কোনো আইনি সমস্যায় আপনি জরিয়ে না পরেন। প্রথম প্রথম ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কাজ চালানো যায় তারপর আপনি মেনুফেকচারিং লাইসেন্স বার করে নেবেন মোটামুটি আপনার 2000 টাকার মধ্যে লাইসেন্স পর্বের কাজটা কমপ্লিট হয়ে।

এই ব্যবসা কতটা লাভজনক?

এবার আসা যাক কতটা পরিমাণ লাভ রাখা সম্ভব হচ্ছে 1 লিটার জেল থেকে।1 লিটার জেল  তৈরি করতে  এবং  বোতলে ভর্তি করে প্যাকেজিং করতে খরচ  35 টাকা।প্রতি ২৫০ml  এর বোতল পাইকারি হারে বিক্রি 25 টাকা অতএব 4  বোতল বা 1 লিটার প্রোডাক্ট বিক্রি করে  25x 4 =100 টাকা পাওয়া জায়। অতএব 1 লিটার জেল বিক্রিতে লাভ 100 – 35=65 টাকা।  প্রতিদিন কুড়ি লিটার জেল বিক্রিতে আপনার লাভ হবে  65 ×২০=1300 টাকা। আর ছোটকাগজ ছাপিয়ে  আপনি বোতলের গায়ে চিটিয়ে দেবেন আর সেখানে দাম 40 টাকা অথবা 45 টাকা রাখতে পারেন সেটা আপনার  ইচ্ছা অনুযায়ী।

কিভাবে আপনি এটার মার্কেটিং করবেনঃ

এটা আপনি আপনার লোকাল মুদিখানার দোকানে বিক্রি করতে পারবেন খুবই সহজ ভাবে। আর হ্যাঁ যদি সম্ভব হয় প্রোডাক্ট তৈরি করার সময় বাজার চলতি ডিসওয়াস এর কালার এর চেয়ে একটু আলাদা করলে সাধারণত তার একটা মাত্রা আলাদাভাবে এনে দেবে। সে ক্ষেত্রে বাজারচলতি হলুদ সবুজ রঙের দৃশ্য খুবই কম আপনি যদি কমলা বা লাল রঙের করতে পারেনি সেটা খুবই ভালো হবে সেটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে যেটা কিনা আপনার তৈরি ডিসওয়াশ আলাদা মাত্রা থাকবে অন্যের সঙ্গে এক হয়ে যাবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published.